“ডেইলি ডীল” বিজনেস! যা জানা জরুরী

বেশির ভাগ অনলাইন ব্যবসা এখন তাদের চোখ ঘোরাচ্ছে ডিসকাউন্ট বেসড ব্যবসার দিকে। কারণ একটাই, প্রচুর পরিমানে মানুষের ঝোক ডিসকাউন্টের জন্য। আর এটা দিন দিনবাড়ছেই, আর বাড়তে ততদিন পর্যন্ত, যতদিন না মানুষ ডিসকাউন্টের উপরে একেবারেই বিরক্ত হয়ে পড়ে, তবে এটা মনে হয় হবে না।

ঠিক এই কারণটাতেই ডিসকাউন্ট সাইট বা ডিল সাইটের কদর দিন দিন বাড়ছে। বিষয়টা এখন এমন পর্যায়ে দাড়িয়েছে যে অনেকরই ধারণা ই-কমার্স সাইট মানেই হল ডিল ওয়েব সাইট। ই-কমার্স সাইট মানে সেখানে স্বাভাবিকের থেকে কম দামে পন্য পাওয়া যাবে।

আসেন দেখি শুরু করার আগে কি কি বিষয়ে নিজেকে প্রস্তুত করতে হবেঃ

১. খাটুনি, খটুনি, খাটুনি: ডেইলিডিল ওয়েব সাইট মানেই বাড়তি খাটুনি। বিশেষ করে প্রথম প্রথম। প্রথম প্রথম আপনাকে বিভিন্ন ব্রান্ডের দরজার দরজায় যেতে হবে তাদের থেকে একটা ডিল আনার জন্য। এবং নিশ্চন্ত থাকতে পারেন, প্রথম দিকে মোটেও সাড়া পাবেন না। সুতরাং খাটুনি দা বেষ্ট পলিসি। আপনি হয়ত ভেবে রাখবেন যে আপনার প্রচুর টাকা আছে (যাদের আছে আর কি) আপনি ইচ্ছা মত ঢালবেন আর লোক কাজ করবে, মনে রাখবেন, এইটাও কম খাটুনির কাজ না।

২. টার্গেট মার্কেট: এইটা নিয়ে আপনাকে প্রথমেই ভাবতে হবে। নেমে পড়লাম, পরে দেখব ভাবলে সব মিলিয়ে আউলায় যাবে। আপনাকে খুব বেশি specific হতে হবে। তা ছাড়া আপনি যদি সব এক সাথে রাখতে চান, তাহলে ঝামেলা। তাই আগে থেকেই টার্গেট মার্কেট সিলেক্ট করুন।

৩. কি ভাবে কি করবেন: কি কি অফার থাকতে পারে থেকে শুরু করে কিভাবে সেই অফার আনবেন, কি ভাবে সেই অফার মানুষের কাছে পৌছাবেন, কিভাবে মানুষের কাছে সার্ভেসটাপৌছাবেন, এবং সর্বোপরি কিভাবে লাভ করবেন তা আপনাকেই খুজে বের করতে হবে। যেমন আমাকে যদি প্রশ্ন করেন যে গ্রামীন ফোনের সেলবাজার কি ভাবে লাভ করে, আমি বলতে পারব। কিন্তু বিক্রয়.কম কি ভাবে করে সেটা আমার অজানা। আর হ্যাঁ বাংলাদেশে যখন এই ধরণের সাইট করবেন, তখন দুইটি জিনিষ অবশ্যই অবশ্যই ভাবতে হবে, ক. টাকা পয়সার লেনদেন কি ভাবে করবেন, খ. কিভাবে পন্য পৌছাবেন।

৪. মার্কেটিং: এটাও কি ভাবে করবেন তা আপনাকেই ভেবে বের করতে হবে। আপনি যদি ভেবে নেন যে শুধুমাত্র ফেসবুক দিয়ে মার্কেটিং করবেন, তাহলে আপনি বোকার স্বর্গে বসে আছেন। ছোট্ট করে বলি, একসময় মাইস্পেস, জিওসিটিস, ট্রাইপড, হাই৫ ইত্যাদি অনেক ফেমাস ছিল, তারা আজ কোথায় কেউ আমরা খবরই রাখি না। আবার এদের বাদ দিলেও হবে না। হয়ত দেখা যাবে যে বাংলাদেশের কিছু লোক এখনও হাই৫ ইউজ করে, আর সে দেখে ফেলল আপনার এড. আর ঝাপিয়ে পড়ল। মার্কেটিং নিয়ে হাজার হাজার পাতা লিখে ফেলা যাবে, তবে আপনাকে এতটুকু বলব যে মার্কেটিং হল ডিল ওয়েব সাইটের একটা বড় দিক। উদাহরণ দেই, ধরেন আজকের ডিল ডট কম এ আজকে একটা প্রোডাক্ট দেখলেন, চিন্তা করলেন যে যদি টাকা থাকত তাহলে কিনতাম। মার্কেটিং ভাই কিছু অংশে ফেইল মারল, যেই অংশ ফেইলমারল না তাতে পরে আসছি! মার্কেটিংটাই এমন হতে হবে যে টাকা না থাকলে যোগাড় করে কিনবে, কিসের থাকলে কিনতাম। এবার আসি যেই অংশটা ফেইল মারে নি সেই অংশে। ২০১২ এ আমি হঠাৎ ঘুরতে ঘুরতে souq.com নামে একটি ওয়েব সাইট দেখি, যা আরব আমিরাতকে টার্গেট করে করা। এখানে একটা আইফোন পেয়েছিলাম, মাত্র ২০,০০০ টাকায় (বাংলাদেশে সেটা তখন ৫০,০০০ টাকা)। কিন্তু কিনতে পারি নাই। কারণ ঐটা অফার হয়েছে মাত্র ৫টি। এবার বুঝেন। এর পর থেকে আমি ঐ ওয়েব সাইটে সপ্তাহে একবার করে হলেও ভিজিট করি। এই করতে করতে মাঝে পেয়ে গেলাম একটা ট্যাব, ২৫,০০০ টাকা দামের একটা ট্যাব কিনে ফেললাম মাত্র ৩,০০০ টাকায়। আর যায় কই, আমার ২০-২৫ টা বন্ধু এখন সপ্তাহে একবার করে ঐ সাইটে ঘুরতে থাকে। তারা হয়ত এত কম দামে আর পায় না, কিন্তু এখন তারা ইলেক্ট্রনিক কোন কিছু কিনলে আগে এখানে খোজ করে, তারপর মার্কেটে যায়, এবং বেশির ভাগ সময়ই এখান থেকে কিনে। আর কিছু কি বলা লাগবে? শেষ কথা, কেউ কিনতে চাইবে না, আপনাকে এমন কিছু করতে হবে, যাতে মানুষ কিনতে বাধ্য হয়।

৫. বাজেট: বাজেট নিয়ে আপনার ভাবতে হবে। এক্ষেত্রে বাজেটর বড় একটা অংশ চলে যায় ওয়েব সাইটের পিছনে। যারা ঢাকা শহরে ঘুরেন, তারা হয়ত দেখেছেন একটি বিজ্ঞাপন, মাত্র ২,৫০০ টাকায় ওয়েব সাইট বা মাত্র ৯৯৯ টাকায় ওয়েব সাইট। এমন যদি আপনার টার্গেট হয়, তাহলে ভূলেও নামবেন না। এত কম খরচে কেউ আসলে সাইট বানায় না। এমনকি ভাল ওয়েব ডিজাইনাররা আপনার সাথে ২,৫০০ টাকায় কাউন্সিলিংও করবে না। ওয়েব সাইট, মার্কেটিং, এড. কালেকশনএইসবে বেশ বাজেট যাবে।

এবার আসেন দেখি কি কি করা লাগবে:

১. ওয়েব ডিজাইন: আগেই বলা হয়েছে এখানে বেশ বড় বাজেট যাবে।

ক. ডিজাইন: আপনার ডিল ওয়েব সাইট এমন হতে হবে যাতে করে মানুষ সহজে সব কিছু খুজে পায় এবং বুঝতে পারে। আপনি যদি এমন কোন ডিজাইন চুজ করেন যে মানুষের সব কিছু খুজেখুজে বের করতে হবে, তাহলে দুইদিন পরে আপনাকে কাষ্টমারখুজেখুজে বের করতে হবে।

খ. সহজ নেভিগেশন: আপনাকে সাইটটি এমন ভাবে করতে হবে যেন মানুষ সহজে নড়াচড়া করতে পারে। কোথায় কি দেখল তা যাতে আউলায় না যায়। সব কিছু যেন ক্যাটাগরীতে থাকে। আবার একটা টেকনিকও ফলো করতে হবে, একই ধরণের প্রোডাক্টের তথ্য যেন হাতের কাছেই থাকে, যাকে বলে রিলেটেড প্রোডাক্ট এড.। যেমন ধরেন একজন কক্সবাজারেট্যুর প্যাকেজ দেখছে, সেটার রিলেটেড প্রোডাক্ট অবশ্যই অন্য একটি কক্সবাজার ট্যুর প্যাকেজ, কোন ভাবেই ল্যাপটপ রিলেটেড প্রোডাক্ট না। এবং এই রিলেটেড প্রোডাক্ট অবশ্যই অবশ্যই যেই পেইজ দেখছে, সেই পেইজেই থাকতে হবে। এতে করে কাষ্টমার সহজেই সবখানে যেতে পারবে, এবং খুজে নিতে পারবে নিজের পছন্দের প্রোডাক্ট।

গ. সহজে মানানসই: এটা মূলত হতে হবে যারা ডিল দিবে তাদের জন্য। ধরেন একজন আপনার ওয়েব সাইটে তার বিজনেসের ডিলপোষ্ট করবে। এসে দেখলো আপনি অপশন রখেছেনদৈর্ঘ প্রস্থ এর, কিন্তু বেচারা বিক্রি করতে চায় কোন হসপিটালেহেপাটাইটিস বি এর ভ্যাক্সিন। এইবার কি করবে সে?

ঘ. ফ্রন্ট এবং ব্যাক এন্ডের সমন্বয়: ধরেন একটি কুপন অফার করলেন, কিন্তু সেটা লেখার জায়গা নাই, তাইলে চলবে না, সমন্বয় থাকতে হবে সব খানে। দুইটিই হতে হবে স্ট্রং।

২. নিজের প্রোমোশনাল টুলকে নিজেই জানতে হবে: কিভাবে সব কিছু প্রোমট করবেন, কে করবে, কি কিরিসোর্স লাগবে, সব জানতে হবে আপনাকেই। আপনি ডিল ওয়েব সাইট করে বসে থাকলেই বিক্রেতারা ছাড় নিয়ে আপনার কাছে দৌড়ে আসবে না। তাদেরকে আনতে হবে। আবার কেউ ইচ্ছামত ৮০% ডিসকাউন্ট আনল আর প্রোডাক্টের বদলে প্রোডাক্টের বক্স কাষ্টমারের বাসায় পৌছল তা হলে আপনার ব্যবসা লাটে উঠবে দুই দিনেই। কিভাবে রিজেনেবলডিল আনা যায়, তা আপনাকে ভাবতে হবে। আবার একজনকেডিল ধরিয়ে দিলে আপনার কি লাভ থাকবে সেটাও আপনাকে ভাবতে হবে। দুইটি উদাহরণ দেই। কিছু সাইট আছে যারা ডিল গুলিকে ফিচার করার জন্য কম্পানির কাছ থেকে টাকা নেয়, আবার কিছু আছে যারা ডিলের থেকেই কিছু কেটে রাখে। ধরেন কম্পানি অফার করেছে ২৫% ছাড়, আপনি বিক্রি করলেন ২০% ছাড়, বাকি ৫% নিজেদের পকেটে।

৩. ডিলের খোঁজ খবর: কোন ডিল আপনার সাইটে আসছে, কোনটি যাচ্ছে, কোনটির শুরু কবে, শেষ কবে তা আপনাকে জানতে হবে। ধরেন ক্যাটস আই রমজানের শুরু থেকে ২০ রোজা পর্যন্ত ছাড় দিল, আপনাকে সেই ভাবেই বিক্রি করতে হবে। আপনি ২০ রোজার রাত্রে যদি ডিল বিক্রি করেন, তাহলে পরের দিন কাষ্টমারক্যাটস আইতে গিয়ে আর ছাড় পাবে না। আবার দেখা গেল যে ডিলেরডেট বেড়েছে, কিন্তু আপনি সাইট থেকে সেটা সরিয়ে ফেলেছেন। আবার দেখা গেল ডিল ছিল ৫টি, আপনি ৭টি বিক্রি করে বসে আছেন।আবার আপনি হয়ত কম্পানির ডিলটাইবুঝলেন না, তাতে আপনার লস হবে। যেমন একবার আমি দেখেছিলাম একজন জানে যে কম্পানি বলেছে যে ৫০০ ইউনিট সেল হলেই সে ১ লাখ টাকা পাবে। সে তো পুরা ১ হাজার টাকা ছাড়ে বিক্রি শুরু করল, তাতে করে তার পকেট থেকে যেতে থাকল ৫০ টাকা করে। কিন্তু অফার শেষে সে কোন টাকাই পেল না, যদিও তার ৭০০ ইউনিট সেল হয়েছে। আসলে ডিলটি ছিল এমন যে এই ডিল কার্যকর হবে তখনই যখন ৫০০ ইউনিট সেল হবে, এবং ১ লাখ টাকা পাবে সর্বোচ্চো বিক্রেতা। এমন হলে আপনার সত্যিই খবর আছে।

৪. প্রেসার সহ্য করার ক্ষমতা: আপনার সাইট মাত্র ৭দিনেও এতো বেশি ভিজিটর পেতে পারে যা আপনি হয়ত ৩ বছরেও কল্পনাও করেন নাই। কারণ এমন হতে পারে যে অসাধারণ একটা ডিল পেয়ে গেছেন, যার জন্য কাষ্টমার মরিয়া। এমন হলে আপনাকে অবশ্যই প্রেসার সহ্য করার মত অবস্থায় যেতে হবে। ফোন, ওয়েব সাইট লোড ইত্যাদি ইত্যাদি সহ্য করতে হবে।

৫. যোগ্য লোক সেট করা: আপনি যদি মনে করেন যে কম খরচে কাউকে দিয়ে কাজ করাবেন, তাহলে আপনি আউটপুটও কমই পাবেন। ধরেণ আপনি একজন বদরাগী লোককে বসালেন কাষ্টমার কেয়ারে, নিশ্চন্ত থাকেন, কয়েকদিনের মধ্যে আপনার বিজনেসকে কেয়ার করার মত কেউ থাকবে না। আবার ধরেন মার্কেটিং এর জন্য নিয়োগ দিলেন শাহবাগ টু মৎস ভবনে গাড়িতে ঘুরে ঘুরে বই-চকলেট-রুমাল বিক্রি করা কোয়ালিটির মানুষ, তারা ঠিকই বলবে যে আপনার এই সাইটে ঢুকলে জানা যাবে কোন কম্পনির কোন প্রোডাক্টের উপরে চলছে ৫০% ছাড়, কিন্তু আপনার ওয়েব সাইটে কাষ্টমার নাও পাওয়া যেতে পারে।

৬. কাষ্টমার কেয়ার: এই বিষয়টাকে বেশ গুরুত্ব সহকারে দেখতে হবে। মনে রাখবেন, একজন সন্তুষ্ট কাষ্টমার হয়ত আপনাকে আর একজন কাষ্টমার এনে দিবে, কিন্তু একজন অসন্তুষ্টকাষ্টমার আপনার ১০জন কাষ্টমার নিয়ে ভাগবে। উদাহরণ দেই, শুভ এপিয়ারেলসের শুভ ভাইয়ের কাছ থেকে আমি দুইটি টি-শার্ট কিনেছিলাম, আমি এই দুইটা প্রোডাক্টে এতই সন্তুষ্ট যে এখন শুভ ভাইয়ের প্রোডাক্ট যে কোন একটা চোখ বন্ধ করে নিয়ে নিব। কিন্তু মাঝে আজিজ মার্কেট থেকে একটা দোকান থেকে দুইটা টি-শার্ট কিনলাম, যেই দুইটাই মাত্র ২/৩ দিন পরার পর ববলিন উঠে গেল, নিয়ে গেলে তারা বলল যে, “কাপড় নিয়ে যদি আপনি ঘসাঘষি করেন, তাহলেতো এমন হবেই”। এই কথা শোনার পর আর যাই হোক, আমি ঐ দোকানে কোনদিনও যাব না। এবং আমার পরিচিত কেউ যদি আমাকে নিয়ে ঐ দোকানে যেতে চায়, আমি যেতে দেই না।আপনার বর্তমান কাষ্টমার যারা আছে, তাদের কে রাজার মত বিবেচনা করতে হবে, তাহলে তারাই আপনাকে আরও রাজা এনে দিবে।

৭. রিভিউরিভিউরিভিউ: ধরেন আপনার বিজনেস হেভি আকারে চলছে, অথবা চলছেই না। আপনাকে দুই ক্ষেত্রেই রিভিউ করতে হবে। যখন হেভি আকারে চলছে, কি করে আরও ভাল করা যায় সেটা ভাবতে হবে। মার্কেটিং এর বইয়ের ভাষায় প্রত্যেকটা প্রোডাক্টের শুরু, ম্যাচিউর এবং ডিক্লাইনিং (শেষ) অবস্থা থাকে, তেমনি করে বিজনেসেরও থাকে। আপনি যদি রিভিউ করেন, তাহলে ম্যাচিউর থেকে নতুন কিছু শুরু করলেই সেটা আবার শুরুতে চলে গেল, আর আগের সেই ম্যাচিউরিটিতোথাকলই। আর যাদের চলছে না, তারা তো রিভিউডেইলিডেইলি করবেন, কিন্তু ভেবে চিন্তে ফাইনালডিসিশননিবেন।

৮. বক বকবকবক: মানুষ বলে নিজের ঢোল নাকি নিজে পিটাতে নাই। আমার কথা, আরে ভাই আমার ঢোল আমি না পিটালে কি হবে? আমি পিটালে রয়ে, সয়ে, বুঝে, শুনে, পিটাব, যাতে ফেটে না যায়। অন্য যদি ফাটায় ফ্যালায়। যেখানই প্রাসঙ্গিক ভাবে নিজের ঢোল পিটানোরচেষ্ট করবেন। উদাহরণ দেই। এই যে লেখাটা পড়ছেন, এটা আমার লেখা, এবং হ্যাঁ আমি নিজে ডেইলিডিল ওয়েব সাইট বানাই, আপনার দরকার হলে আমার সাথে যোগাযোগ করেন।আশাকরি বুঝতে পারছেন। আবার এমন করেন না যে ইচ্ছা মত সব খানে বলে বেড়ালেন। তাহলে সব খান থেকে ব্লকড অবস্থায় চলে যাবেন।

৯. অন্যের থেকে সব সময় এগিয়ে থাকা: ২০০৩-৪ সালের দিকের কথা, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে আমার ভাইয়া পড়ত, সেই সুবাদে ঐদিকে প্রায়ই যেতাম। আর সব বড় ভাইদের হাসাহাসি করতে করতে একটা কথা বলতে শুনতাম, “ওক্‌ দিল্‌ তো মোক্‌ দিল্‌ না ক্যা?” কথাটা বাংলাতেই, খুব সম্ভবত রংপুরের এবং অন্য কিছু এলাকার ভাষার একটা সংস্করণ। কথাটার মানে হল ওকে দিলি তো আমাকে দিলি না কেন। এই কথার মানে কি? মানে হল আপনার সাইটে যে ডিল দিয়েছে, অন্যের সাইটেও সে একই ডিল দিতে পারে। এখন ক, খ, গ সব সাইটে যদি সব ডিল একাই হয় তাহলে মানুষ কোনটাতে যাবে? সেটা অনেক কিছুর উপরে নির্ভর করবে। কিন্তু ঘ নামে একটি সাইট যদি ঐ সব ডিল রেখে সাথে আরও ৫% বেশি ডিল রাখে, তাইলে কিন্তু সবাই ঐটারেইচুজ করবে। “ওক্‌ দিল্‌ তো মোক্‌ দিল্‌ না ক্যা?” ফলো করে সবাই একই ডিলরাখলেও আপনাকে বেশি কিছু করে দেখাতে হবে।

১০. পেমেন্ট অপশন: মনে রাখবেন, যার পেমেন্ট অপশন যত বেশি তার ততো সুবিধা। ধরেন আপনার শুধু ব্রাক ব্যাংকের একটা একাউন্ট আছে। আর একজন ডিবিবিএল মোবাইল ব্যাংক, বিকাশ, ইসলামি ব্যাংকের এমক্যাশ, ৫-৭টা ব্যাংক একাউন্ট এমনকি শেষ পর্যন্ত ভিসা কার্ডের পেমেন্টেরসিষ্টেমও রাখছে, আপনি নিশ্চিন্ত থাকেন, আপনার ঐ একটা একাউন্ট থাকবে, কিন্তু তাতে টাকা জমা পড়বে না। সুতরাং বেশি বেশিপেমেন্ট অপশন।

১১. লোকালি শুরু করা: প্রথম অবস্থাতেই যদি সারা দেশ ব্যাপি শুরু করতে যান, ধরা খেতে পারেন। আপনার এলাকা টার্গেট করুন। এলাকায় বসেই সিরাম বিজনেস করতে পারেন। যেমন অনেকেই মনে করেন যে ঢাকা ছাড়া এইসব কন্ট্রোল করা যায় না, কিন্তু কথা ভূল। আপনার মফস্বলেই আপনি শুরু করতে পারেন, সব কিছুই লোকাল এবং ফ্রেশ। ঢাকা থেকে হয়ত আইফোন যাবে, কিন্তু ডেইলি বাজার পৌছাবে না, আপনি ঐটাই টার্গেট করেন,আইফোন মানুষ এমনই আপনার কাছ থেকে কিনবে।

১২. ট্রেনিং: আপনার কর্মচারীদের সঠিক সময়ে সঠিক ট্রেনিং এর ব্যবস্থা আপনাকেই করতে হবে। নাইলে ওপেন কট।

১৩. পড়ালেখা: জ্বি ভাই/আপু, ঠিক পড়ছেন, পড়ালেখা করতে হবে। আমার এই এফোর সাইজের কাজগে ৫পাতার এক লেখা পড়েই যদি মনে করেন যে আপনি এখন বস হয়ে গেছেন বা সব জেনে গেছেন, তাইলে আপনি মা-শা-আল্লাহ একটা গ্যালক্সির সব বোকাদের রাজা হতে পেরেছেন। কারণ এই ৫পাতা লেখা আমি প্রায় ২০টি ওয়েব সাইট ঘেটে সাজিয়েছি, যা পড়ে শেষ করতে আমার বড়জোর ১০ মিনিট লাগবে। কিন্তু আমি এখনই কোন প্রস্তুতি ছাড়া প্রায় ৫/৬ ঘন্টার সেমিনার করায় ফেলতে পারব। বুঝেন কই আছেন। পড়েন, রিসার্চের কোন বিকল্প নাই।

ঝুকি:

১. যে কোন সময় যে কেউ শুরু করতে পারে।

২. “ওক্‌ দিল্‌ তো মোক্‌ দিল্‌ না ক্যা?” মেথড সব সময়ই প্রযোজ্য।

৩. আপনার থেকে ভাল ভাল অফার অবশ্যই অন্যেরা যোগাড় করে ফেলতে পারে।

৪. কম বাজেটের জন্য আপনার সার্ভার দুইদিন পর পরতাব্দা খাইতে পারে।

৫. আপনার মার্কেটিং ভূল পথে চলতে পারে, যাতে কাষ্টমার সব ভাগবে।

৬. যাদের ডিল আপনি সেল করবেন, তাদের পারফরমেন্স খারাপ হতে পারে।

৭. আপনি মার্কেট সম্পর্কে আপটুডেট নাও থাকতে পারেন।

৮. আপনার প্রতিদ্বন্দি সব সময় আপনাকে কচুকাটা করতে প্রস্তুত থাকবে, তাই আপনাকে ঢাল রাখতে হবে বাঁচার জন্য, আর তলোয়ার রাখতে হবে কচুকাটা করার জন্য।

Copyright @Shafiul Alam Chowdhury